নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা ২৩ সেপ্টেম্বর

প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক আসছেন। জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশনে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এসে পৌঁছবেন তিনি। ঐদিনই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হবে গণসংবর্ধনা। ম্যানহাটনের ৬ এভিন্যুতে অবস্থিত হিলটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজন করা হচ্ছে এই সংবর্ধনার। সংবর্ধনায় অংশ নিতে হাজারো প্রবাসী আসবেন বিভিন্ন স্টেট ও কানাডা থেকে। ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশ্যে তিনি নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করতে পারেন। এর আগে জাতিসংঘে বিভিন্ন সরকার প্রধাননের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন।
এবারের বৈঠকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে শেখ হাসিনার বৈঠক। পর্যবেক্ষক মহল এই বৈঠককে তাৎপর্যময় বলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সম্মানের আয়োজিত সংবর্ধনা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আরো অনেকগুলো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

জাতিংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশণ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বাংলা পত্রিকার সাথে আলাপকালে বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের সংর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ নিয়ে তার ভিষণের কথা তুলে ধরবেন। স্বপ্নোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের ধাপে এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাসে তিনি হচ্ছেন মুল কান্ডারী ও স্বপ্নদ্রষ্টা। একমাত্র ‘জাতির জনক’-এর কন্যা বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তার নেতৃত্বে তিনি আগামীর বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান আমরা সেটা তার কন্ঠেই শুনতে চাই। এজন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন প্রবাসীরা।

ড. সিদ্দিক বলেন, চলতি বছর হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এই নির্বাচন হবে নিয়ে যেমন রয়েছে চক্রান্তকারীদের ষড়যš,¿ তেমনি প্রবাসীরাও কৌতুহলী। তাই নির্বাচনের রুপরেখা এবং প্রবাসীরা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা কি ভূমিকা পালন করতে পারেন সেটাও আমরা জানতে চাইবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। গত ৫ বছরে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া এবং এর চ্যালেঞ্জ সমূহ প্রবাসীরা জানতে চায় বলে আমি মনে করি। জননেত্রী শেখ হাসিনা সে বিষয়টি স্পষ্ট করবেন বলে আমরা আশা করছি।

এয়ারপোর্টে অভ্যর্থনার প্রস্তুতি সম্পর্কে ড. সিদ্দিক বলেন, প্রতিবারের মতই আমরা উষ্ণ সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী মেখ হাসিনাকে অভিষিক্ত করবো। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐদিন সকাল ৭টা থেকে এয়ারপোর্টে আসতে আমি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ হচ্ছে বহি:বিশ্বে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। এক্ষেত্রে আমরা দলের সকল নেতা কর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফল সফল করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে এটা নির্বাচনের বছর। এজন্য এমন কোন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা সাংগঠনিক দূর্বলতা বিষয়ে কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারে সেজন্য সকলের প্রতি আন্তরিক থাকার আবেদন করছি। তিনি বলেন, একটি বড় দল হিসেবে আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকতে পারে। কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রতিপক্ষ কোন ধরনের দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে। সেজন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সজাগ থাকতে হবে।
ড. সিদ্দিক বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ভাষণ দিতে পারেন। সেখানে অন্যান্য বছরের মতই আমরা সংহতি এবং শান্তি সমাবেশ করবো। এতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠন এবং প্রবাসীরা যোগ দেবেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার প্রধানমন্ত্রী। এই হিসেবে আমরা আশা করবো সবাই তাকে সম্মান জানাবেন। এই অবস্থায় কেউ যদি এমন কোন কর্মসূচী দেয় যা দেশের ইমেজ ক্ষুন্নের কারণ হবে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বসে থাকবে না। আইনী প্রক্রিয়ায় আমরা তাদের কর্মসূচী প্রতিহত করবো।

ড. সিদ্দিক বলেন, প্রতি বছরই আমরা কোন না কোনভাবেই চমক রাখি। এবছরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও চমক থাকবে। তবে এটা এই মুহুর্তে বলা হবে না। চমক দেখানো হবে সংর্ধনা অনুষ্ঠানে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে দলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন নতুন কমিটি হবে কিনা। পরিবর্তন আসবে কিনা দলের নেতৃত্বে। লবিং পাল্টা লবিংয়ের খবরও আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। একটি সূত্রের মতে, কমিটি বদল হবে কিনা এটা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ সম্পাদক পদকে ভারমুক্ত করা হতে পারে। এক্ষেত্রে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ হতে পারেন ভারমুক্ত। অথবা নিয়োগ পেতে পারেন নতুন কোন সাধারণ সম্পাদক।

সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই আগ্রহী। এক্ষেত্রে বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ ও আব্দুর রহিম বাদশা ছাড়াও কাজী কয়েস, হাজী এনাম, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, এমদাদ চৌধুরী সহ আরো অনেকেরই নাম শুনা যাচ্ছে।