নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত করলো আদালত

যে আশংকা করা হয়েছিল, তাই সত্যে পরিণত হলো। নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কে কুইন্স সপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২১ অক্টোবর রোববার ২৭৫১৩ ভোটারের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন হবার কথা ছিল। মাননীয় আদালতের সিদ্ধান্ত জানায় বাংলাদেশ সোসাইটির বিদায়ী কমিটি ১৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলন থেকে। এ সময় আরো জানানো হয় যে, ৩০ অক্টোবর এ মামলার শুনানীর তারিখ ধার্য করা হয়েছে। সেদিনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে নির্বাচন কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ ছাড়াও কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম জামাল ইউ আহমেদ।

নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘নয়ন-আলী প্যানেল’র দুই সদস্য প্রার্থী জেড আর চৌধুরী লিটু এবং আলী আকবর বাপ্প্রি মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। ১৮ অক্টোবর কৃহস্পতিবার নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন কুৃইন্স সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় জজ জেনিস এ টেইলর। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলো বাংলাদেশ সোসাইটি। সে আপিলের শুনানী হয় ১৯ অক্টোবর শুক্রবার এবং আপিলের আবেদন নাকচ করেন মাননীয় আদালত। এছাড়া, এই সংগঠনের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ্বতা দাবি করে ওসমান চৌধুরীর দায়ের করা আরেকটি মামলার শুনানীও ৩০ অক্টোবর একইসাথে হবে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সংহত করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিশেষ একটি প্যানেলের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের নগ্ন অভিযোগ উঠার পর থেকেই মামলার আশংকা করা হচ্ছিল। যদিও মামলা দায়েরকারিদেরকে ‘কুচক্রি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সভাপতি কামাল আহমেদ।

৪৩ বছরের পুরনো বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে এবারই প্রথম অধিকসংখ্যক প্রবাসী মাথাপিছু ২০ ডলারের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত হন ভোটার হিসেবে । এ নির্বাচনে অপর প্যানেল ছিল ‘রব-রুহুল প্যানেল’। ১৯ আসনের এ নির্বাচনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আরো দু’জন প্রার্থী ছিলেন। তুমুল প্রচারণার মধ্যে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ জারি হওয়ায় সকলেই হতাশ। কারণ, মিলিয়ন ডলারেরও অধিক ব্যয় হয়েছে ইতিমধ্যেই। উদ্ভ’ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থীরা নতুন করে কর্মকৌশল অবলম্বন করবেন বলে জানা গেছে।

‘নয়ন-আলী প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু নাসের এবং সদস্য-সচিব বাবুল চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘মাননীয় আদালতের রায়ে সত্য উদ্ভাসিত হলো। উল্লেখ্য, ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- কাজী আশরাফ হোসেন (নয়ন), সিনিয়র সহ সভাপতি- আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ-সভাপতি- মোহাম্মদ রেজাউল করীম (সগীর), সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ দুলাল মিয়া, কোষাধ্যক্ষ- মোহাম্মদ জেড খান (ডিউক), সাংগঠনিক সম্পাদক- আহসান হাবিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মনিকা রায়, জন সংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- শেখ হায়দার আলী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- আবুল কাশেম চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ হাসান (জিলানী), ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোহাম্মদ এইচ রশীদ (রানা), স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ এস মিয়া (সামাদ) এবং কার্যকরী সদস্য- মোহাম্মদ এম আলম, মোহাম্মদ এ সিদ্দিক, সাঈদুর আর খান (ডিউক) ও আহসান উল্লাহ (মামুন)।

অপরদিকে ‘রব-রুহুল প্যানেল’র প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান, সহ সভাপতি আব্দুল খালেক খায়ের, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ (বাকির), কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভুঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডা. শাহনাজ লিপি, জন সংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ টিপু খান, সাহিত্য সম্পাদক ফয়সল আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য, কার্যকরী সদস্য মোঃ সাদী মিন্টু, ফারহানা চৌধুরী, শাহ মিজান, আবুল বাশার, আক্তার হোসেন বাবুল ও সুশান্ত দত্ত।