সবার নজর নভেম্বরের মিডটার্ম ইলেকশনে

প্রবাস রিপোর্ট: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আড়াই’শ বছর ধরে গড়ে উঠা গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ম্যূল্যবোধ বিরোধী অবস্থান এবং যে আর্থিক নীতি নিয়ে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী তো বটেই মুলত সারা বিশ্বেই যে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে সেই সব নীতিকে কি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কি প্রত্যাক্ষ্যান করতে যাচ্ছেন নাকি তার এই সব নীতি ভোটাররা এন্ডোর্স করবেন- এ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম ইলেকশনের দিকে এখন সকলের নজর। আগামী ৬ নভেম্বও অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার বিশেষ কোন পরিবর্তন হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের নীতি বাস্তবয়নে এই নির্বাচন অতীতের যে কোন মিডটার্ম ইলেকশন থেকে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাড়িয়েছে। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী সংস্থা কংগ্রেসের ভাগ্য। মিডটার্ম ইলেকশনের মাধ্যমে হাউসের ৪৩৫ টি আসনে কংগ্রেসম্যান এবং সিনেটের মোট ১০০ টি আসনের মধ্যে ৩৫ আসনে সিনেটর নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ৩৯টি স্টেট বা টেরিটরীতে গভর্ণরসহ নির্বাচন সহ বহু স্টেটের সিনেট, এসেম্বলীম্যান, বহু সিটির মেয়র ও সিটি কাউন্সিল প্রতিনিধিরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। সুতরাং যে কোন বিচারেরই ২০১৮ সালের মিডটার্ম ইলেকশন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ব্যাচনী ব্যবস্থায় একটি মহাযজ্ঞ।

সিনেটের যে ৩৫ টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সে আসনগুলোর মধ্যে ৩৩টি আসনে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এবং ২ টি আসন থেকে দুজন সিনেটর পদত্যাগ করায় শুণ্য হয়েছে। এই আসনগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডেমোক্রাটদের অধীনে রয়েছে ২৩টি, আটটি রিপাবলিকানদের দখলে এবং  ২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন।

বর্তমানে হাউসে এবং সিনেট-উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। কংগ্রেসের ৪৩৫ টি আসনের মধ্যে ২১৮টি আসন যে দলের কংগ্রেসম্যানদের দখলে তারাই হাউস নিয়ন্ত্রন করেন। বর্তমান কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ২৩৫ টি এবং ডেমোক্রাটদের দখলে ১৯৩ টি। অন্যদিকে সিনেটে ১০০ টি আসনের মধ্যে ৫১টি রিপাবলিকানদের দখলে, ৪৭টি ডেমোক্রাটদের দখলে এবং ২টিতে স্বতন্ত্ররা রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদেরর সামনে এই নির্বাচনকে কেšদ্র করে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আসছে, ইমিগ্রেশন পলিসি বিষয়ক। বিপাবলিকান দলীয় হাউস স্পীকার পল রায়ান আপ্রাণ চেষ্টা করছেন মিডটার্ম ইলেকশনের আগেই এই বিষয়টি ফয়সালা করে নির্বাচনে তার সুবিধা নিতে। এ লক্ষ্যে তিনি ঘোষনা দেন জেল জুনের মধ্যেই কংগ্রেস একটি ইমিগ্রেশন আইন পাশ করবে। এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌছালেও তার দলীয় কয়েকজন উদার কংগ্রেসম্যানের কারণে সেটি সম্ভও হয় নি। পল রায়ান মুলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন পলিসির আদলে একটি আইন প্রণয়ন করতে। তবে এর মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশে ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল  (ডেকা) প্রোগ্রামের যারা আবেদন করেছেন তাদেও বৈধ করে নিতে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঐ আইনটি বাতিল করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তার সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদেও জন্য মিডটার্ম ইলেকশন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাঠে ট্রাম্প ও ওবামা

অতীতে মধ্যবর্তী নির্বাচে ন প্রেসিডেন্টরা নিচ নিজ দলকে জয়যুক্ত কারার জন্য তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না নিলেও আগামী মিডটার্ম ইলেকশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঝাপিয়ে পড়েছেন। একটিকে টুইটার ব্যবহার কওে তিনি প্রতিতিনই এই নির্বীচনে তার সমর্থকদেও উজ্জীবিত করার চেষ্ঠা করছেন সেই সাথে তিনি বিভিন্ন রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদেও সমর্থনে ব্যপক সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে  নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার পর অনেকটা আড়ালেই চলে যান। মাঝে মাঝে দু-একটি বিষয়ে বক্তব্য দিলেও অভিকাংশ সময় তিনি নিরবই ছিলেন। মিডটার্ম ইলেকশন উপলক্ষে সেই নিরবতা ভেঙে ফের রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সফল এ প্রেসিডেন্ট। তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাবেন এবং চাঁদা সংগ্রহে নামবেন বলে জানিয়েছেন। ওবামার এই সিদ্ধান্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদের কাছে সুখবর। ওবামা শুধু জনপ্রিয়-ই নন, স্মরণকালে যুক্তরাষ্ট্রের সফল প্রেসিডেন্ট ভাবা হয় তাকে।

ডেমোক্রাট শীর্ষ নেতুত্ব এখন অনেকটাই বেহাল অবস্থায়। বিশেষ কওে নিউইয়র্কে একজন ২৮ বছর বয়সী শ্রমজীবির কাছে অন্যতম শীর্ষ নেতা জোসেফ ক্রাউলির পরাজয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বেও বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। কংগ্রেসে দলের নেতা ন্যান্সি পেলোসি নানা সমালোচনার মুখে আছেন। দলের প্রগতিশীল অংশ চায় নেতৃত্বে নতুন মুখ আসুক। কিন্তু পেলোসি এখনো ক্ষমতার রশি ছাড়তে প্রস্তুত নন। ৭৮ বছর বয়সী পেলোসির বিশ্বাস, ডেমোক্রেটিক দল আরও একবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসবে। আর তিনিই সে কাজে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। কংগ্রেসে জয় ছিনিয়ে আনতে তিনি রণকৌশল হিসেবে সরাসরি ট্রাম্প বিরোধিতার বদলে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনে বেশি আগ্রহী। কিন্তু দলে বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থক হিসেবে পরিচিত অনেকেই চান পেলোসি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি ট্রাম্পের ব্যাপারে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করুক।

স্ট্যাচু অব লিবার্টির উপর ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের দিনে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী। বুধবার স্ট্যাচু অব লিবার্টির উপর উঠে বিক্ষোভ করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। স¤প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র আওতায় আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আটক অভিযান ও মামলার জেরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় দুই হাজারেরও বেশি শিশু। শিশুরা আইনের চোখে অপরাধী না হওয়ায় তাদেরকে আটক মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কর্মকর্তারা বলেছেন, ৫ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত  ২ হাজার ২০৬ জন বাবা-মার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৪২ জন শিশুকে। চাপের মুখে বিচ্ছিন্নকরণ ঠেকাতে ‘পরিবারকে একত্রিত রাখা’র এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। তবে সেই আদেশেও ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই দুই সহস্রাধিক শিশুর ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে ২৬ জুন সান ডিয়াগোর ফেডারেল বিচারক ডানা সাবরাও ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দেন ৫ বছরের কম বয়সী সন্তানদের আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আর তার চেয়ে বড় শিশুদের ৩০ দিনের মধ্যে মা-বাবার সঙ্গে একত্রিত করতে হবে। শিশুদের একত্রিত করার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও প্রাপ্তবয়স্ক আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ এখনও বজায় আছে।

এই অবস্থায় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে  দুপুরের দিকে ট্রাম্পের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্ট্যাচু অব লিবার্টির ভিত্তির উপরে উঠে দাঁড়ান এক নারী। মাটি থেকে স্তম্ভটির ভিত্তির উচ্চতা ৩০ মিটার। 

সূত্র- নিউ প্রবাস