হজের বিধানে ‘কুরবানী’ বলে কোন শব্দ নেই

নিউজ ডেস্কঃ  বলা হয়ে থাকে তামাত্তু বা কিরান হজের ছয়টি ওয়াজিবের একটি হচ্ছে ‘কুরবানী করা’। (ইফরাদ হজে ‘দমে শোকর’ নেই) তামাত্তু বা কিরান হজে যেহেতু অতিরিক্ত উমরা আদায় করা হয় সেজন্য তার শুকরিয়া আদায় স্বরূপ একটি হাদী জবাই করার কথা ফিকহী কিতাবে আছে। এটাকে ‘দমে শোকর’ বা ‘শোকরানা দম’ বলে যেতে পারে।

কিন্তু হজের যে সব বাংলা কিতাব লেখা হয়েছে তাতে পাঠকের সুবিধার্থে ‘কুরবানী করা’ অনেকে লিখেছেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ যেহেতু কুরবানীর দিনগুলোর ভিতরই এই দমে শোকর আদায় করা হয় ফলে সাধারণ হজযাত্রীদের অনেকেই এই ধারণা করতে পারেন এটা সুন্নতে ইব্রাহিমের কুরবানী। এবং ইতিপূর্বে অনেকে এ নিয়তে কুরবানী করে এসেছেন শুনা যায়।

কারণ কুরবানি বলতে আমরা সুন্নতে ইব্রাহিমের কুরবানীই বুঝি। অন্য কোন কুরবানী নয়। এর বাস্তবতা আমরা সমাজে দেখতে পাই। বিবাহ বা কোন অনুষ্ঠান অথবা গোশতের দোকানে যে পশু জবাই করা হয় তাকে কুরবানী বলা হয় না। পশু জবাই বলা হয়ে থাকে। শুধু কুরবানির ঈদের দিনগুলোতে সুন্নতে ইব্রাহিমের নামে যে পশু জবাই করা হয় তাকেই আমরা কুরবানী বলে থাকি। এটা আমাদের বাঙালি পরিভাষা।

কেউ কেউ যুক্তি দিয়ে থাকেন, ‘হাদী’ বা ‘দমে শোকর’ বললে বাঙ্গালি বুঝবে না তাই সহজার্থে কুরবানী লেখা হয় কিন্তু এই যুক্তি মোটেই ঠিক নয়। কারণ হজের প্রায় বিধানই এমন যে ব্যাখ্যা না করলে বুঝে আসবে না। যেমন ইহরাম, ওকুফে আরাফা, তাওয়াফ, সায়ী ইত্যাদি শব্দটাগুলোও হাদী বা দমে শোকরের ন্যায়।

এই ইহরাম, ওকুফে আরাফা, তাওয়াফ, সায়ী শব্দগুলো কিন্তু আমরা পরিবর্তন করিনি। যথাস্থানে রেখেছি সে অনুযায়ী ‘হাদী জবাই’ বা ‘দমে শোকর’ বললে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অন্যান্য শব্দগুলোর ন্যায় এটাও মানুষ ব্যাখ্যার সাথে বুঝতো।

কুরবানী শব্দ এ জন্যই বলা যাবে না কারণ কোন হাজী যদি কুরবানী বলতে সুন্নতে ইব্রাহিমের কুরবানী বুঝেন এবং সে নিয়তে কুরবানী করে দেশে চলে আসেন তাহলে তার ওপর ৩টি দম (পশু জবাই) ওয়াজিব হবে।

১) হাদী জবাই বা দমে শোকর ২) দমে শোকর আদায় না করে হালাল হয়ে যাওয়ার কারণে একটি জরিমানার দম। ৩) আইয়ামে নহর তথা জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২ এই তিন দিনের ভিতর দমে শোকর আদায় না করার কারণে আরেকটি দম। এবং এই সবগুলোই হুদুদে হারামের ভিতর আদায় করতে হবে।

অন্য কোথাও আদায় করলে হবে না। মু’আল্লিমুল হুজ্জাজ সহ অন্যান্য কিতাবে এই বিধান বর্ণিত আছে।

অতএব বিভ্রান্তি দূর করার জন্য হজের বাংলা কিতাবগুলো সংশোধন হওয়া উচিত। এবং হজ প্রশিক্ষণগুলোতেও এ বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার। তাছাড়া হাদী জবাইকে কুরবানী বলার কোনো যুক্তিও নেই। এই হাদী জবাইকে দমে শোকর বা শোকরানা দম বলা যেতে পারে। অথবা হাদী জবাইও বলা যেতে পারে।

সূত্র- আওয়ার ইসলাম